রবিবার ৮ মার্চ ২০২৬ - ১৬:১৭
মিনাবে স্কুলছাত্রী হত্যাকাণ্ড: ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডির অভিযোগ, নীরব বিশ্বমাধ্যম

হাওজা / ইরানের মিনাবের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৭ থেকে ১২ বছর বয়সী ১৬৭ ছাত্রীকে তাদের শ্রেণিকক্ষে হত্যা করা হয়েছে-ইতিহাসের নথিভুক্ত সবচেয়ে বড় স্কুলছাত্রী হত্যাকাণ্ডের মধ্যে অন্যতম। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সাবেক সদস্য জর্জ গ্যালোওয়ে এই ঘটনা ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর থেকে সংঘটিত সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক ট্র্যাজেডির সঙ্গে তুলনা করেছেন। আশ্চর্যজনকভাবে, এই হত্যাকাণ্ড আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রায় প্রকাশ পায়নি, যা নীরবতার বিস্ময় সৃষ্টি করেছে।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানের হরমুজ প্রণালীর কাছাকাছি অবস্থিত দূরবর্তী শহর মিনাবে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংঘটিত ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডকে ইতিহাসের অন্যতম বড় ট্র্যাজেডি হিসেবে উল্লেখ করেছেন ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সাবেক সদস্য জর্জ গ্যালোওয়ে। তার দাবি, একটি বিমান হামলায় স্কুলের শ্রেণিকক্ষের ভেতরেই ৭ থেকে ১২ বছর বয়সী ১৬৭ জন স্কুলছাত্রী নিহত হয়।

গ্যালোওয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবচেয়ে ভয়াবহ ট্র্যাজেডিগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। ঘটনাটি ইরানের একটি প্রত্যন্ত ও প্রায় অজানা এলাকায় ঘটায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তেমন আলোচনায় আসেনি বলেও তিনি উল্লেখ করেন। হামলায় আরও অন্তত ৬০ জন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

তিনি আরও জানান, যুদ্ধের প্রথম দিনেই আরেকটি বিমান হামলায় ৪০ জন ভলিবল খেলোয়াড় নিহত হন, যাদের মধ্যে তিনটি পূর্ণ নারী দলের সদস্যরা ছিলেন। গ্যালোওয়ের মতে, এই দুই ঘটনার সম্মিলিত প্রভাব অত্যন্ত মর্মান্তিক হলেও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তা প্রায় উপেক্ষিত থেকেছে।

বিশ্বমাধ্যমের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে গ্যালোওয়ে বলেন, “যদি রাশিয়া ১৬৭ জন ইউক্রেনীয় স্কুলছাত্রীকে হত্যা করত, কিংবা ফিলিস্তিনিরা ১৬৭ জন ইসরায়েলি স্কুলছাত্রীকে হত্যা করত, অথবা ইরান এমন কোনো ঘটনা ঘটাত-তাহলে সেটি বহু বছর ধরে বিশ্বমাধ্যমের প্রধান শিরোনাম হয়ে থাকত।”

তার এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক সংবাদ কাভারেজের বৈষম্য নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha